বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র জর্ডান রোড এলাকায় একটি ডেভেলপার কোম্পানি কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা প্ল্যান পাস ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভবনটির প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। সার্কিট হাউস সংলগ্ন সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এমন অনুমোদনহীন ভবন নির্মিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বিস্ময় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে ‘গ্রিন সিটি’ নামের কোম্পানিটি এই নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। বিসিসি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, এই ভবনের জন্য কোনো প্ল্যান পাস করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ ছাড়া জমির মূল মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। ভূমির মালিক সালমা জাহান জানান, তার স্বামী মরহুম মোস্তফা রফিক আহম্মেদ খান ৯ তলা ভবনের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে গ্রিন সিটির সঙ্গে চুক্তি করে তিনি প্রতারণার শিকার হন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তিনি স্ট্রোক করেন এবং ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। সালমা জাহান ও তার দুই সন্তান রেজোয়ান আহম্মেদ খান ও রাফি খান অপি অভিযোগ করেন যে, তাদের অগোচরে বণ্টননামা তৈরি করে কোম্পানিটি তাদের বঞ্চিত করেছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করতে গিয়েও তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান।
বিসিসির প্ল্যান শাখার স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান জানান, গ্রিন সিটি কোনো প্ল্যান পাস করেনি এবং ওই এলাকাটি সার্কিট হাউস সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই; নতুন আইন অনুযায়ী সেখানে সর্বোচ্চ দ্বিতল ভবন করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, কোম্পানিটি জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া প্ল্যান প্রদর্শন করছে। অভিযোগ রয়েছে, কনফিডেন্স ডিজাইনারের পরিচালক রিমন বিসিসির সহকারী প্ল্যানার লোকমান হোসেন ও সংশ্লিষ্ট রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ, সালাউদ্দীন, বাবু এবং ইমরানের সহযোগিতায় এই ভুয়া প্ল্যান তৈরি করেছেন।
সহকারী প্ল্যানার লোকমান হোসেন এবং রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ ও বাবু তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রিন সিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউসুফ কাজীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ করার সুযোগ নেই এবং স্বাক্ষর জালিয়াত ও অবৈধ নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।