দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের পাশাপাশি ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের হবে। এছাড়া কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে বিকেলে একটি সার্চ কমিটি এই তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকেই কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে গঠিত সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠকের মাধ্যমে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত ও যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে এই নামগুলো চূড়ান্ত করে।
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালের আগস্টে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।
কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে স্বাধীন দুদক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল। সর্বশেষ মোমেন কমিশনও পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার আগেই বিদায় নেয়। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।