কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ এখনো অন্ধকারে রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যতলী ও হরিণছড়াসহ দুর্গম এলাকাগুলোর শত শত পরিবার আধুনিক জীবনের অন্যতম মৌলিক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাপ্তাই উপজেলা সদর ও নিকটবর্তী এলাকার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামগুলো অত্যন্ত দুর্গম। পাহাড় ও অরণ্যবেষ্টিত গ্রামগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে প্রথাগত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। এই বাস্তবতায় স্থানীয়দের দাবি, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দীর্ঘ অপেক্ষার চেয়ে প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের সোলার সিস্টেম স্থাপন করা বেশি কার্যকর ও দ্রুত সমাধান হতে পারে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ঘর আলোকিত করার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা, মোবাইল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ভানুমতি চাকমা জানান, এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে তিনি তিন বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। তিনি জানান, এই তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট ৫৬০টি পরিবার রয়েছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানির জন্য বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নেই। সরকার সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করলে এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ৫৬০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।