৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে ‘আহমদ ঈসা’ নামক এক ব্যক্তি ‘নাবা সেভেন’ নামে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নবুওয়তের মিথ্যা দাবি প্রচার শুরু করে। ভিডিও ক্লিপে সে ঘোষণা দেয় যে, তার রচিত ‘আল-কিতাব’-এ এমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা দুনিয়ার কোনো শক্তি খণ্ডন করতে পারবে না। সে দাবি করে, কোরআনে তার সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে এবং যে ব্যক্তি তার কিতাব পড়বে, সে তাকে আল্লাহর রাসুল হিসেবে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হবে। এই ভণ্ড দাবিদার মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাসকারীদের মূর্খ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং খতমে নবুওয়তের আকিদাকে ভিত্তিহীন বলে প্রলাপ বকেছে। সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছে, মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী হওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারলে সে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবে। তার দাবি অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী নন এবং তাকে নির্দিষ্ট কোনো ভাষাভাষী বা সম্প্রদায়ের জন্য পাঠানো হয়নি।
ভণ্ড দাবিদার এই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আদনান নজির আরাঈ। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের খাটানা গ্রামের বাসিন্দা। জীবনের শুরু থেকেই সে বিভিন্ন কুকর্মে জড়িত ছিল। গ্রামের কিছু যুবকের সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হওয়ার পর তার বাবা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে ফেরেনি। উল্টো সে ওই যুবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তার বাবার আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই অস্বচ্ছল, তিনি রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। কিছুদিন স্পেনে অবস্থান করে সে কাদিয়ানিদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করে। বাবার মৃত্যুর পর সে পাকিস্তানে ফিরলে এলাকার ইমাম সাহেব তার বাবার জানাজার নামাজ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর সে পুনরায় স্পেনে চলে যায় এবং সেখান থেকেই ভিডিও আপলোড করে নবুওয়তের দাবি করে। ১০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে তার ভাই স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে স্পেন পালিয়ে যায়।
আহমদ ঈসার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘নাবা সেভেন’ হিব্রু শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ ‘ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী’। সে মূলত ইহুদিদের দালাল হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী, যা কোরআন, হাদিস ও উম্মতের সর্বসম্মত মতের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ বলেন, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী। রাসুল (সা.) নিজেও বলেছেন, তার পরে ত্রিশজন মিথ্যুক আত্মপ্রকাশ করবে যারা প্রত্যেকেই নবী হওয়ার দাবি করবে, অথচ তিনি সর্বশেষ নবী। সুরা বাকারার আয়াতগুলোও প্রমাণ করে যে, রাসুল (সা.)-এর পর নবুওয়তের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে গেছে।
এই মিথ্যুকের কোরআন-হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত ভাসাভাসা। সে দাবি করে মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র বিশ্বের জন্য পাঠানো হয়নি, অথচ কোরআনের দশটি আয়াত প্রমাণ করে যে তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসুল। সে তার বই ‘আল-কিতাব’-এ অসংখ্য ব্যাকরণগত ভুল করেছে এবং মৌলিক কোনো বিষয়ের আলোচনা নেই। বইটি বৈপরীত্যে ভরপুর; একদিকে সে রাসুল (সা.)-এর নবুওয়ত অস্বীকার করছে, আবার অন্যদিকে কোরআনকে নিজের দলিল হিসেবে পেশ করছে। সে কোরআনকে কেবল ইতিহাসের কিতাব বলে দাবি করে নিজের নবুওয়ত প্রমাণের নাটক সাজিয়েছে, যা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির প্রহসনের অনুরূপ। অনেক মুসলিম তাকে মোনাজারার চ্যালেঞ্জ জানালেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। উলামায়ে কেরাম এই নতুন ফেৎনার মুখোশ উন্মোচন করছেন এবং সাধারণ মানুষকে এই মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।