নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৫ জনে পৌঁছেছে। বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ভেসে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ২৮ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় ভারতীয়, মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ অন্তত ৩৪১ জন বিদেশি রয়েছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রাথমিক হিসাব বলছে, মোট ৩৯১ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ১০০ জন নেপালি নাগরিক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না, তা যাচাইয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নুওয়াকোট জেলার শিক্ষক সুমন চালিসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তিনি নিজের চোখে পানির স্রোতে আট থেকে নয়টি ট্রাক, ঘরবাড়ি এবং মানুষকে ভেসে যেতে দেখেছেন। তিনি জানান, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে।
বন্যা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ঘটায়নি, দেশটির বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের ভূ-তথ্য বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠার মতে, ভূমিকম্পের ফলে পাথর ও বরফের ধস নেমে লেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।