গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের পটভূমিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও কাছাকাছি যাওয়ার পথে পা বাড়াতে পারে উত্তর ইউরোপের ছোট্ট নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ড। ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ শনিবার দেশটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় চার লাখ মানুষের এই দেশে ভোটের ফলাফল কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
এর আগে ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ে প্রথমবারের মতো ইইউতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল আইসল্যান্ড। সে সময় তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশটির বহু পরিবার ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চলার পর আইসল্যান্ডের ক্ষমতায় আসে একটি মধ্য-ডানপন্থি সরকার। তারা এই যোগদানের উদ্যোগটি স্থগিত করে দেয়। তাদের মূল আশঙ্কা ছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং নিজেদের জলসীমায় মাছ ধরার ওপর আইসল্যান্ডের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে চলে এসেছে। আইসল্যান্ডের বর্তমান মধ্য-বাম জোট সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউর সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে একটি গণভোটের আয়োজন করা হবে। একই সাথে বর্তমান সরকার ইইউ, অন্যান্য নর্ডিক দেশ এবং সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক নীতি বজায় রাখার কথা বলেছে। তবে এবারের এই রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিতর্কের পটভূমি আগের চেয়ে অনেকটাই বদলে গেছে।