চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করার এবং নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এক দশক পর এটিই তার প্রথম কায়রো সফর। বেইজিং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে এই অবস্থান গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
কায়রোর ইত্তিহাদিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৈঠক শেষে শি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের মালিক। তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আঞ্চলিক দেশগুলোকে শান্তি ও নিরাপত্তা সংলাপ জোরদারে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। চার বছরের মধ্যে এটি তার প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। বিশেষ করে লোহিত সাগরের হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয় আরও দৃঢ় করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এছাড়া ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খলে যৌথ বিনিয়োগসহ বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। মিসরের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমুখী করার অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে এই সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সময়ে কায়রো ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রেখে চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জন্য মিসরের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, মিসরের বিশাল বাজার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দেশটির কূটনৈতিক প্রভাব বেইজিংয়ের কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ২০১৪ সালে সিসির চীন সফরের পর থেকে মিসরের সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথমার্ধে মিসর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে।
দেশটি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়।
‘ঈগলস অব সিভিলাইজেশন’ নামের ওই মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে বিরল বিমানযুদ্ধের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।