যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সপ্তম মাসে গড়ানো এই সংঘাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও তার জানা নেই বলে জানান ভ্যান্স।
চলমান এই পরিস্থিতির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পেয়েছে এবং বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই ইস্যুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যান্সের মতে, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে আর কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট এড়াতে সহায়তা করেছে।
সংঘাতের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, 'আমি এটাকে যুদ্ধ বলব না। এখন কোনো গোলাগুলি চলছে না। আমি স্বীকার করছি, কিছু জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।' তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা সম্ভব নয়। এর আগে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের উপকূলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং অঞ্চলটিতে প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে আনা হয়েছে। সংঘাত কবে শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, 'ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? বাস্তবতা হলো, এর উত্তর আমি জানি না।'
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন জেডি ভ্যান্স।