ইসরাইলি কারাগারে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই বন্দি থাকা গাজার চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার ওপর নিয়মতান্ত্রিক ও গুরুতর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০৮:৪০ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার আইনজীবী ও একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই চিকিৎসকের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের নতুন বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। কারারক্ষীরা তাকে নিয়মিত মারধর ও ঘুমাতে না দেওয়ার পাশাপাশি আইনজীবীর কাছে মুখ খুললে পরিণতির হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত রোববার মধ্য ইসরাইলের নিজান কারাগারের রাকেফেত আটককেন্দ্রে গিয়ে আবু সাফিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার আইনজীবী নাসের ওদেহ। এরপর বুধবার ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরাইল (পিএইচআরআই) এক বিবৃতিতে চিকিৎসকের এই নতুন সাক্ষ্যের কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, কারারক্ষীরা আবু সাফিয়াকে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করছে, এমনকি তার সংবেদনশীল স্থানেও পেটানো হচ্ছে। এছাড়া রাতে লাউডস্পিকারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তীব্র শব্দ তৈরি করে ইচ্ছাকৃতভাবে তার ঘুম নষ্ট করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ এই আটককেন্দ্রে তাকে একাকী বা নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনী আবু সাফিয়াকে আটক করে। তৎকালীন সময়ে গাজায় সচল থাকা শেষ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি ছিল এই হাসপাতালটি। হাসপাতালটি খালি করার জন্য ইসরাইলি বাহিনীর দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এই চিকিৎসক। তার আটকের পর হাসপাতালটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। গাজায় চলমান যুদ্ধে ইতিমধ্যে শত শত চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং প্রায় সব হাসপাতাল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবু সাফিয়ার ওপর নির্যাতনের চিত্র এর আগেও বিভিন্নভাবে সামনে এসেছে। গত জুনে ইসরাইলি আদালতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তাকে হাজির করার একটি ফুটেজে দেখা যায়, তার মুখ ও পেটের অংশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শুকনো ও জীর্ণ হয়ে গেছে। জুলাই মাসে পিএইচআরআই জানিয়েছিল, আবু সাফিয়ার মাথা, চোখের চারপাশ, কান ও ঘাড়ে গুরুতর ও তাজা আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার চেহারা এতটাই বদলে গিয়েছিল যে আইনজীবীর পক্ষে তাকে চেনা কঠিন ছিল। এছাড়া জুলাইয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনও নিশ্চিত করে যে আবু সাফিয়া ‘নিরবচ্ছিন্ন ও গুরুতর নির্যাতনের’ শিকার হচ্ছেন।
শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গত ১০ আগস্ট তাকে রাকেফেত থেকে রামলা কারাগারের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। পিএইচআরআই জানিয়েছে, এই স্থানান্তরই প্রমাণ করে তার গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, যা সাধারণ কারাগারের ওয়ার্ডে দেওয়া সম্ভব নয়। একজন স্বাধীন চিকিৎসক দিয়ে তার শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য গত ৭ জুলাই ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিল পিএইচআরআই, কিন্তু তা eagerness সত্ত্বেও এখনো অনুমোদন করা হয়নি। এছাড়া আবু সাফিয়া পিএইচআরআইয়ের মাধ্যমে ইসরাইলের একটি প্রশাসনিক আদালতেতেও আবেদন করেছেন, যেখানে কারা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে।
আবু সাফিয়ার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি এবং তার কোনো বিচারও হয়নি। তাকে ইসরাইলের ‘কমব্যাট্যান্ট আইন’-এর আওতায় বন্দি রাখা হয়েছে, যে আইনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সময় কোনো বিচার ছাড়াই আটকে রাখা যায়। তার জীবন রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য গত মাসে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।