বিশ্ববাজারে টানা কয়েকদিন কমার পর আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্থির রয়েছে স্বর্ণের দাম। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার মূল্যবান এই ধাতুটির দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে দুটি বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যার কারণে স্বর্ণের দাম আপাতত একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থমকে আছে।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৪৭৭ দশমিক ১০ ডলারে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, আগামী ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৫২২ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর স্বর্ণের পরবর্তী দামের ওঠানামা নির্ভর করছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার। তার এই বক্তব্যের পর আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি কর্মসংস্থানের তথ্য দুর্বল আসে কিংবা বেকারত্ব বাড়ে, তবে মার্কিন ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাবে। আর তেমনটি হলে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কর্মসংস্থানের চিত্র শক্তিশালী হলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাড়বে, যা স্বর্ণের দামের ওপর উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে ভিটি মার্কেটসের বিশ্লেষক রস ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিক চাহিদা বাজারকে বেশ ভালো সমর্থন দিচ্ছে। ফলে দাম সাময়িকভাবে কমলেও বড় ধরনের কোনো পতনের আশঙ্কা আপাতত কম।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও কিছুটা পতনের প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮১১ দশমিক ২৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৪১৫ দশমিক ৭৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।