বাঙালির ভোজনরসিক মহলে চিংড়ি মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উপকরণ। নারকেলের দুধে মালাইকারি থেকে শুরু করে কচুশাকের সঙ্গে চিংড়ির ব্যবহার—সবই ভোজনরসিকদের কাছে বেশ সমাদৃত। তবে সাধারণ পদের বাইরে একটু ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে আপনি অনায়াসেই ট্রাই করতে পারেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘চিংড়ির জলটোবা’। খুব সাধারণ ঘরোয়া উপকরণেই এই সুস্বাদু পদটি তৈরি করা সম্ভব।
এই রান্নাটির জন্য প্রয়োজন ৫০০ গ্রাম মাঝারি আকারের চিংড়ি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ৪ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, ৩ টেবিল চামচ টকদই, ১ টেবিল চামচ কাঁচালঙ্কা বাটা, ১ টেবিল চামচ গরম মশলা বাটা, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ২টি তেজপাতা, ৪টি গোটা কাঁচালঙ্কা, ১ চা চামচ জিরে গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো এবং ১ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়ো। এ ছাড়াও স্বাদমতো নুন, চিনি, ১ কাপ নারকেলের দুধ, ১ চামচ ঘি এবং রান্নার জন্য পরিমাণমতো সর্ষের তেল লাগবে।
প্রথমে চিংড়ি মাছের খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং মাথা বাদ দিয়ে নুন ও লেবুর রস মাখিয়ে রাখুন। এরপর চিংড়িগুলো মিক্সিতে দিয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে। বাটা চিংড়ির সঙ্গে আদা বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা ও হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রণটি ৩০ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। অন্যদিকে কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে তেজপাতা ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, মরিচ বাটা ও গরম মশলা বাটা দিয়ে মশলাটি ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মশলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে এতে টকদই ও গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়ে দিন এবং স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি মিশিয়ে নিন।
মশলা কষানো হয়ে গেলে এতে নারকেলের দুধ ঢেলে দিন। এবার ফ্রিজ থেকে চিংড়ির মিশ্রণটি বের করে ছোট ছোট লেচি কেটে গোল বলের মতো আকার দিন। চিংড়ির বলগুলো সাবধানে গ্রেভির মধ্যে ছেড়ে দিন এবং আঁচ কমিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট রান্না করুন। চিংড়ির বলগুলো সেদ্ধ হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিন। সবশেষে উপর থেকে এক চামচ ঘি ও সামান্য গরম মশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী স্বাদের চিংড়ির জলটোবা। গরম ভাতের সঙ্গে এটি দুপুরের খাবারের জন্য দারুণ একটি পদ।