ইয়েমেনের কৌশলগত জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার তারা প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মায়ুন বা পারিম দ্বীপের দখল নেওয়ার দাবি করেছে। ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা নৌকায় করে সেখানে পৌঁছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
মায়ুন দ্বীপটি বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপের পাহাড়ি এলাকা থেকে হুতিরা এখন পুরো জলপথের ওপর নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া হুতি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও অবস্থান নিয়েছে এবং সামরিক যান নিয়ে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী এই প্রণালিটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌদি আরবের জন্য তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।
মায়ুন দ্বীপ ছাড়াও হুতিরা বাব এল-মান্দেবের পার্শ্ববর্তী জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হানিশে থাকা দুই হাজারের বেশি সেনার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা খাবার ও পানি সংকটে ভুগছে এবং উদ্ধারের জন্য বিমান সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এর আগে হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হয়ে সেটিরও নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, প্রথম ফোনালাপে যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন এবং কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সাড়া দেননি বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিয়াদে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা এরই মধ্যে সৌদি বাহিনীকে ‘নন-কাইনেটিক’ সহায়তা প্রদান করছেন।