দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও চীন। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চেও দেশ দুটি পরস্পরের প্রতিযোগী। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর এটি তার ভারত সফর।
বেইজিং থেকে রওনা হওয়ার আগে ও ভারত সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে চীন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে চায়। বেইজিং একই সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার এবং বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সামলানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, চীন ও ভারত দুই দেশের নেতাদের দিকনির্দেশনায় ভালো প্রতিবেশী ও পরস্পরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যেতে চায়। কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর এবার টানা তৃতীয় বছরের মতো দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মোদি ও শির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের নেতারা যোগাযোগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করার বিষয়ে কাজ করবেন। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষের পর দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজান ও তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং শনিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। দুই দিনের এই ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।