প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অর্থায়ন ও ইন্ধনদাতা হিসেবে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ দলটির একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পতিত সরকারের কয়েকজন নেতা দেশ ও বিদেশ থেকে এই কার্যক্রমে অর্থ জোগান দিচ্ছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল বের করে এবং সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। মিছিলের দিন ও তার পরদিন (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে সরাসরি অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনসহ মোট ৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করে হঠাৎ ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই অর্থের জোগান আসছে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তহবিল থেকে। মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা ও যাতায়াত খরচ দেওয়া হচ্ছে। পলাতক নেতাদের প্রতিনিধিরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদারকি করছে। বর্তমানে হুন্ডি, বিকাশ ও বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা অর্থের লেনদেন রেকর্ড পর্যালোচনা করছেন গোয়েন্দারা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করার সময় হাতেনাতে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার স্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে কিছু নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য অনেক বড়। বর্তমানে এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে গুলশানের এই ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় পুলিশের কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কমিটির বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তারা কোনো তথ্য না দেওয়ায় তিনি এ নিয়ে মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে ডিসি (সদর দপ্তর) শাহরিয়ার আলী তদন্ত কমিটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কমিটির সদস্যদের নাম বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি এবং রাজনৈতিক নাশকতার জন্য পর্দার আড়াল থেকে অর্থায়ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।