বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারের স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। যদিও গত দুই দশকে বেসরকারি খাতের ব্যাপক বিকাশের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও অভিজ্ঞ একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে বিটিভি’র মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, সরকার হয়তো এবার চ্যানেলটির চরিত্র বদলাতে আগ্রহী। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক চিঠি সেই প্রত্যাশাকে অনেকটা ধুলিসাৎ করে দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিটিভি মহাপরিচালকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বিটিভি’র সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে যেকোনো জনসচেতনতামূলক বার্তা বা কনটেন্ট প্রচারের জন্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আদেশের ফলে মহাপরিচালকের পদটি কার্যত একটি ‘ডাক বাকসো’তে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ছাড়া কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
চিঠিতে যেসব বিষয়ে মহাপরিচালককে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে, তার তালিকা বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে জনবল ব্যবস্থাপনা, নতুন পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, নীতিগত পরিবর্তন, বিধি সংশোধন এবং বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়া প্রান্তিক অনুষ্ঠানসূচি, বাজেট প্রণয়ন, ক্রয় ও বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ডিজি’র একক ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রচার যন্ত্রপাতি, স্টুডিও সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার বা ওভি ভ্যান ক্রয়ের মতো কারিগরি ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আবশ্যক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অতীতে বিটিভি’র মহাপরিচালককে এভাবে ক্ষমতাহীন করার নজির নেই। বরং ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক আদেশে মহাপরিচালককে ১৭টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন এই চিঠির মাধ্যমে তার বেশিরভাগই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বিটিভি’র মহাপরিচালকের পদটি কার্যত নীতিনির্ধারণী কর্তৃত্ব হারিয়েছে।