রাজধানীর বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। তবে খুচরা বাজারে এর চেয়েও বেশি দাম দেখা গেছে। বিক্রেতাদের হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫ টাকা ছিল। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫–৭০ টাকায়, যার দাম আগে ছিল ৫৫–৬০ টাকা। এছাড়া দুই কেজি ওজনের মোড়কজাত ময়দার প্যাকেটের দাম ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ কেজি পড়ছে ৮০–৮৫ টাকা, যা মাসখানেক আগে ৭০–৭৫ টাকা ছিল। মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর জানান, পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনলেও গত সপ্তাহে তা ২ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
আটা-ময়দার পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দামও চড়া। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের ডজন ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০–২০০ টাকায়, যা দেড় মাস আগেও ২০ টাকা কম ছিল। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩৪০–৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি মুরগি ৩০০–৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও গরমের কারণে অনেক খামারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে, ফলে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে দাম একই জায়গায় আটকে আছে।
মাছের বাজারও উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। রুই মাছ ৪০০–৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০–৪৪০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২৫০–৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪০০–৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, কাঁচামালের দাম বাড়ার অজুহাতে গত শনিবার ব্যবসায়ীরা বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে উৎপাদন খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ায় রুটি ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।