২০২৬ (2026) সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগোয়ার চোখজুড়ানো সবুজ খারোগি অ্যাথলেটিক পার্কে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে এখন ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মার টর্নেডো সেঞ্চুরিতে ১৯৫ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারেই স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি মিলে স্কোরবোর্ডে তোলেন ৭২ রান। ৩৭ রান করা মান্ধানাকে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন নাহিদা আক্তার। এরপর ভারতীয় উইকেটকিপার গুনালান কামালিনি দ্রুত বিদায় নিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে দেননি শেফালি। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন ৯৪ রানের বিধ্বংসী জুটি।
বাংলাদেশের বোলাররা লাইনে বল রাখতে ব্যর্থ হন এবং ফিল্ডাররাও কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি। শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র দুই রান দূরে ছিলেন শেফালি। প্রথম তিন বলে স্ট্রাইক না পেয়ে চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছান তিনি। ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক ছক্কা মেরে ৪৯ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ভারতীয় ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, যেখানে ছিল ৯টি ছক্কার মার। অন্যপ্রান্তে হারমানপ্রীত ৪০ রান করে রাবেয়া খানের বলে আউট হন এবং রিচা ঘোষ করেন ২ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা ৪৩ রানে ১টি, মেঘলা ২৫ রানে ১টি, রাবেয়া ৩৫ রানে ১টি এবং নাহিদা ৪৮ রানে ১টি উইকেট নেন।
১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চারজনই ফিরেছেন এক অঙ্কের ঘরে। অধিনায়ক জ্যোতিও এই ম্যাচে নিজের নামের প্রতি বিচার করতে পারেননি। ওপেনার দিলারা আক্তার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে ২৭ রান করেন। তবে দলীয় ৪৯ রানে তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে তাসের ঘরের মতো ধস নামে। শেষ দিকে সুলতানা খাতুন ১২ রানে অপরাজিত থাকলেও ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অন্য ব্যাটারদের মধ্যে শারমিন করেন ১০ রান। ভারতের পক্ষে নন্দিনী ২৫ রানে ৩টি, দীপ্তি ৭ রানে ৩টি, শ্রী চারণী ৭ রানে ২টি এবং শ্রেয়াঙ্কা ২২ রানে ১টি উইকেট শিকার করেন।
সম্প্রতি এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও এই ভারতের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। স্বর্ণের আশা শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচে হারের ভয় কাটিয়ে সমর্থকরা একটি লড়াকু পারফরম্যান্স আশা করছেন।