পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে রিয়েকার স্তাদিয়ন রুয়াভিচে এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড। উয়েফা নেশনস লীগের এ৩ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে থ্রি লায়নরা। এই জয়টি ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে ঘরের মাঠে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয় হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংলিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দিশেহারা ছিল ক্রোয়েশিয়ান রক্ষণভাগ। মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় অধিনায়ক হ্যারি কেইন গোল করে দলের লিড নিশ্চিত করেন। এরপর ২১ মিনিটে জুড বেলিংহামের নিখুঁত ফিনিশিং এবং ৩৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ৩-০তে পৌঁছায়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ৪৫ মিনিটে বুকায়ো সাকা গোল করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ইংলিশদের দাপট অব্যাহত ছিল। ৫৩ মিনিটে হ্যারি কেইন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, যা ছিল দলের পঞ্চম গোল। এরপর ৬৮ মিনিটে কেইনের পাস থেকে বুকায়ো সাকা নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করলে স্কোরলাইন ৬-০ হয়। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা মরগান রজার্স গোলরক্ষককে একা পেয়ে দলের সপ্তম ও ঐতিহাসিক গোলটি আদায় করে নেন।
পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন এবং বুকায়ো সাকারা মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে দুর্দান্ত আধিপত্য বজায় রাখেন। ৪১ বছর বয়সী লুকা মদরিচের নেতৃত্বাধীন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ড ইংলিশদের গতি ও যুবশক্তির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে তেমন কোনো পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি, কেবল শেষ মিনিটে ইভান পেরিসিচের একটি দুর্বল শট ছাড়া।
এর আগে ২০১৮ সালে স্পেনের কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। এছাড়া ঘরের মাঠে তাদের আগের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স ছিল ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলের হার। সেই সব রেকর্ড মুছে রিয়েকায় নিজেদের সর্বকালের সবচেয়ে বড় হারের তিক্ত স্বাদ পেল তারা। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানে (+৮) এগিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড।