ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সংস্কার ও মেরামতকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হওয়া এই কেন্দ্রটি পুনর্গঠনে কাজ চলছে জোরকদমে। মূল ভবনের সংস্কারকাজ চললেও বর্তমানে বাইরের একটি টিনের ছাউনিতে সীমিত পরিসরে নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম শুরু করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও কক্ষগুলো এখনো প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফটকের ভেতরে থাকা টিনের ছাউনির নিচে চেয়ার-টেবিল পেতে শিশুদের টিকা এবং নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। হামলার আগে এই ছাউনিটিতে মূলত নিবন্ধনসহ সাধারণ কাজ করা হতো। গত কয়েক দিন কেন্দ্রের ভেতরের দুটি কক্ষে সেবা দেওয়া হলেও গতকাল সেখানে রঙের কাজ চলায় আবারও ছাউনির নিচে কার্যক্রম সরানো হয়েছে। গতকাল এই কেন্দ্রে মোট ৫৬ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ জন শিশুকে টিকা এবং ২১ জন নারীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। অথচ এই হামলার আগে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ মানুষ সেবা পেতেন, যাদের বড় অংশই ছিলেন গর্ভবতী মা ও নারী। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হতো।
মিরপুর-১-এর এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দুটি একতলা ভবন রয়েছে, যার একটি মূল সেবা কেন্দ্র এবং অন্যটি প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হতো। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এখানে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ওষুধ, টিকা ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন দেয়াল ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নিজস্ব অর্থায়নে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাঠামোগত সংস্কারকাজ চলছে। হামলার সময় ভেঙে ফেলা সামনের ও পেছনের বারান্দার দেয়াল নতুন করে গেঁথে প্লাস্টার করা হয়েছে এবং গতকাল সেগুলোতে রঙের কাজ করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন কক্ষে নতুন লোহার গ্রিল, দরজা ও জানালার কপাট বসানো শেষ হয়েছে। কর্মীদের বসার ও খাবার ঘর এবং পাশের দাপ্তরিক ভবনের সংস্কারকাজও চলছে। পানির ট্যাংক বসিয়ে সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং শৌচাগারগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। পেছনের সীমানাদেয়ালের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে কেন্দ্রটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, রাড্ডা থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক পণ্য ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর বোঝা যাবে সেখানে কী কী জিনিস রয়েছে এবং নতুন করে কী কী প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, শুরুতে কাজ দ্রুত শেষ হবে ভাবা হলেও ছোটখাটো অনেক কাজ বাকি থাকায় পুরোপুরি সেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা যাচ্ছে না। হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কালার প্রিন্টার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, জেনারেটর, তিনটি বড় এসি, অটোক্লেভ মেশিন, রোগীদের বিশেষ বিছানা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের বসার আসবাবপত্র, ফাইল ক্যাবিনেট ও স্টিলের আলমারিও নষ্ট হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলো পরীক্ষা করার পরই নতুন সরঞ্জামের চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও সহায়তার বিষয়ে রাড্ডা ট্রাস্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।