মধুপুরে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামে কলা, পেঁপে, আনারস ও সবজি বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষকের স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে।
গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ এই ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও ফলের বাগান তছনছ হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও শিকড়সহ উপড়ে পড়েছে পুরো গাছ। এছাড়া পেঁপে, আনারস ও বিভিন্ন প্রকার সবজি ক্ষেতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আনারস ও অন্যান্য সবজি বাগানের ক্ষতির বিবরণও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, যত্ন আর মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের পর ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেকেই ধারদেনা করে বা নিজের জমানো শেষ সম্বলটুকু দিয়ে কলা, পেঁপে ও আনারস চাষ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড় তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
হরিণধরা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু সায়েম হোসেন নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি এই আনারস ও কলাবাগানে ঢেলে দিয়েছিলাম। আশা ছিল ফসল বিক্রি করে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।”
কৃষকদের মতে, একটি কলাগাছ ভেঙে যাওয়া মানে কেবল একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর পেছনে থাকা শ্রম, ঋণ এবং পরিবারের আগামী দিনের ভরসাও ভেঙে পড়া। আকস্মিক এই দুর্যোগের ফলে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার চাষিরা। তারা এখন সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, বিশেষ অনুদান এবং পুনরায় চাষাবাদ শুরু করার জন্য কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দাবি করছেন।