সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত এবং শাস্তির তথ্য কেন গোপন রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি পক্ষ এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটে পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও সেখানে তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা এই দুজন ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরবে গিয়ে আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। সরকারি নথি ও কূটনৈতিক সূত্রমতে, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট এবং সুইটি আক্তারকে ২ আগস্ট আটক করা হয়। নজরুলকে সাইবার ক্রাইম এবং সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তবে তালিকার কোথাও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানানোর পর ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রথমবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য চায়। পরে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে পুনরায় কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল এবং সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বৈঠকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিম্ন আদালত তাদের দণ্ড দেন এবং পরবর্তীতে আপিল আদালতের ১৩ জন বিচারকের প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আদালতের রায় অনুযায়ী নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের মতে, যদি তালিকা থেকে জেদ্দা মিশন দণ্ডের বিষয়টি জানতে পারত, তবে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক আছেন, যাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হয়েছে। এর আগে সাইবার বা ব্যভিচারের অপরাধে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে মিশন জানিয়েছে।