গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গত রোববার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ঐক্য পরিষদের নেতারা হরিদাস চন্দ্রের মুক্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পুরানা পল্টন মোড় ঘুরে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নির্মল রোজারিও। তিনি বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংরক্ষণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, একটি দেশে সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটছে।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য হরিদাসকে দায়ী করা হচ্ছে, কিন্তু মন্দিরের মূর্তির উচ্চতা কত হবে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে অসাম্প্রদায়িক চেতনার অভাব লক্ষ্য করছেন বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া এবং ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা। এর আগে ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বানও জানিয়েছিল।
হরিদাস মন্দিরে ৮০ ফুট মূর্তি নির্মাণ করবে নাকি ১০০ ফুট করবে বা ১৫০ ফুট করবে—সেটা তাঁর ব্যাপার।