রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকলেও রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ছোলার ডালের দামও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকার নিচে। এছাড়া ছোলার ডালের দাম বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
মালিবাগ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা যেত, এখন তা পাইকারিতেই ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। রমজান আসার আগেই পাইকারি বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জামিল হোসেন বলেন, রমজান আসতে এখনো অনেক সময় বাকি। এর মধ্যেই ছোলার দাম বৃদ্ধি সিন্ডিকেটের কারসাজি ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রতি বছর রমজানের অজুহাতে আগেভাগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে নেমেছে, তবে গ্রীষ্মকালীন সবজি এখনো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, শসা ও গাজরের দামও তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আদা ও রসুনের বাজার এখনো চড়া; রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫ থেকে ২১০ টাকা, চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারও চড়া রয়েছে; পাঙাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৬০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং চিংড়ি আকার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।