শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ তোলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, খাইরুল বর্তমানে সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা দুজনেই পলিটিক্যাল স্টাডিজ ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী খাইরুল জানান, হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি শুক্রবার হল প্রভোস্টকে মেনশন করে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপর ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান তাকে ডেকে নিয়ে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন জানিয়ে প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশের পরামর্শ দেন। একই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ করলে শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান ফটকে হাসিবুর ও তারেক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খাইরুল তাদের জানান, এ বিষয়ে কথা বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এরপরই হাসিবুর রহমান তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম জানান, তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। খাইরুল যখন দলীয় প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখনই হাসিবুর রহমান তাকে বুকে লাথি মারেন এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান তাকে আঘাত করতে থাকেন। তবে অভিযুক্ত তারেক রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, খাইরুল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং হাতাহাতির এক পর্যায়ে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায় ও মোবাইল ফোন নষ্ট হয়। হাসিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি কাউকে মারধরের মদদ দেননি। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।