আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হার এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলই ফাইনালের আক্ষেপ নিয়ে মায়ামি স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু ৬৪,৪৭৮ জন দর্শকের সামনে খেলা এই ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড-ব্রেকিং লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ছেলেদের ফুটবলে এটিই ইংলিশদের সেরা সাফল্য এবং বিদেশের মাটিতে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ফরাসি রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়নসরা। খেলার ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলের পর ১৮ মিনিটে এজেরি কনসার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর বুকায়ো সাকার ম্যাজিকে ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ড এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সাকা নিজে দুটি গোল করেন। ১৯৩০ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা পেল ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এমবাপে ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে দুটি গোল করেন, যার ফলে তিনি লিওনেল মেসির ২১ গোল ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যান। এর মাঝে ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা ফ্রান্সের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ইংলিশ হিসেবে নকআউটে এবং ১৯৫৮ সালের পর পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন তিনি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান কমালেও ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। ৬-৪ ব্যবধানের এই জয় বেলিংহ্যামের টুর্নামেন্টে সপ্তম গোল, যা এক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল হওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা ১৯৫৮ সালের ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানির ৬-৩ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে এক আসরে ৭টি অ্যাসিস্ট করে পেলের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তবে ৬৬ বছর পর কোনো ম্যাচে ৬ গোল খাওয়ার লজ্জায় ডুবল ফ্রান্স।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্টে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান ৪-৫ করলেও নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ৯৮ মিনিটে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন জুড বেলিংহ্যাম। ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি ছিল টুর্নামেন্টে বেলিংহ্যামের সপ্তম গোল, যা এক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
পরাজয়ের দিনেও ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে এক আসরে সর্বোচ্চ ৭টি অ্যাসিস্টের নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের গড়া ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডকে ভেঙে দিল। তবে ম্যাচটি ফরাসিদের জন্য চরম হতাশার; কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনোই তারা এক ম্যাচে ৬ গোল হজম করেনি এবং যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৬৬ বছর পর এই প্রথম ৬ গোল খাওয়ার তিক্ত স্বাদ পেল তারা।