দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি অববাহিকার জেলাগুলো তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলা; সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা রয়েছে।
বন্যা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন করে আরও বেশ কিছু জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এবং আত্রাই ও ছোট যমুনা অববাহিকার নওগাঁ ও নাটোর জেলার নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের পানি বর্তমানে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫: ০৯আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২১