ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে সংসদ ভবন এলাকা। সোমবার নিষেধাজ্ঞা ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ রাজপথে নেমে এলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার।
মূলত মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি। আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি এবং মধ্য দিল্লি জুড়ে দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থসহ পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, যা যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি করে।
বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, রেল ভবন ও শাস্ত্রী ভবনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জল কামানও ব্যবহার করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সিজেপি সমর্থকদের শান্ত ও অহিংস থাকার জন্য সমর্থকদের প্রতি জরুরি বার্তা প্রদান করে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক ২১ দিন ধরে অনশনরত ছিলেন, যাকে শনিবার জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার কেরালা হাউসের সামনে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর ওপর পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। দুপুর ১২টার দিকে সিজেপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস জানান, দলের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধে অনশনরত অভিজিৎ দীপকেকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হলেও সোনাম ওয়াংচুক নিজে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে ভর্তির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে ২১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।