শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে সামরিক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানার আশরাফ হলে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সামরিক আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস ছিল। দীর্ঘ সময় ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইনে বিচারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে আইনানুগভাবে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই অপরাধে সিভিল ল’ ও মার্শাল ল’— এই দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার করার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজিবি’র প্রস্তাবনা অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত মাইন বা ল্যান্ডমাইনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে অত্যাধুনিক ডিটেকশন যন্ত্রপাতি বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মি, আরএসও ও আরসা’র মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ত্রিমুখী সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ বজায় রেখেছে। তিনি আরও বলেন, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ভিন্ন, তাই মিয়ানমার সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি।
সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কাউকে অবৈধভাবে পুশ-ইন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিটি পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতির স্বপক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া বিজিবি’র জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।
জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় আশরাফ হলে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।