ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। হুতিদের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
হুতিদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ বজায় রেখেছে। এই পরিস্থিতির জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্র অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তবে হুতিদের এই ঘোষণার বিষয়ে সৌদি আরবের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে টানা দশম দিনের মতো ইরানে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই নতুন সংঘাতের ফলে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেঙে পড়েছে। যদিও দুই পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই হুতিদের এই ঘোষণা এলো।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তেহরান হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। এছাড়া চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে তেল সরবরাহ এরই মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।