যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অ্যান্ডি বার্নহাম তার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল এনেছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন র্যাচেল রিভস ও ডেভিড ল্যামি। একই সঙ্গে তিনি দলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের পদোন্নতি দিয়েছেন এবং কয়েকজনকে নতুন দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী এবং এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বামপন্থী নেত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার সরকারে ফিরেছেন এবং ওয়েস স্ট্রিটিংকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে সমর্থকদের করতালিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। এর আগে বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর চার্লসের এটি চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী এবং এক দশকের বেশি সময়ে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হলেন বার্নহাম।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বার্নহাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তিনি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, বার্নহামের সঙ্গে তার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তারা সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া জেলেনস্কির সঙ্গে আলাপে বার্নহাম ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অটল প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে প্রথম ভাষণে বার্নহাম নতুন রাজনৈতিক মডেল ও নতুন অর্থনীতি নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। তিনি ব্রিটেনে পুনরায় শিল্পায়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং গৃহহীন সমস্যার অবসানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে তিনি ১০ বছরের একটি নতুন পরিকল্পনা সামনে আনবেন বলে জানিয়েছেন, যার বিস্তারিত মঙ্গলবার থেকে ঘোষণা করা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দায়িত্ব ছাড়ার সময় দাবি করেন, তার দুই বছরের শাসনামলে ব্রিটেন আরও শক্তিশালী হয়েছে।