২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় মক্কায় হারাম শরিফের বাইরের চত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা থাকবে। এছাড়া মিনায় জোন-৭-এর তাঁবুতে অবস্থানের পাশাপাশি ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সেবা পাবেন হাজিরা।
সাশ্রয়ী সরকারি হজ প্যাকেজ-২-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এই প্যাকেজ গ্রহণকারীদের মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্য মিনায় জোন-৫-এর তাঁবু ও ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৬৮ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় চারটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকলেও ২০২৭ সালে তা কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে এবং ‘ডি’ সার্ভিস প্যাকেজটি বাদ দেওয়া হয়েছে। হাজিদের সেবার মান উন্নত করতে এবার বোর্ড ক্যাটাগরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এবার হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে এই ভাড়া ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যে দেশেই অবস্থান করুন না কেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ করে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
হজ নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচনের পর প্রাথমিক নিবন্ধন হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে এবং পরে পুরো অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজে গমনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।