দুই বছর বয়সী নিজের সন্তানকে খুঁজে না পাওয়ার অসহায়ত্ব নিয়ে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা জানিয়েছিলেন তাঁর উদ্বেগের কথা। শিশুটি বুঝতে শিখেছে যে মা তাকে দেখতে পায় না, তাই সে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে। এই মা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার শুরু করলেন, তখন পরিস্থিতি বদলে গেল। স্মার্টফোনের ক্যামেরা চারপাশের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে তাঁকে জানিয়ে দেয় শিশুটি কোথায় দাঁড়িয়ে বা খেলছে। এই প্রযুক্তি তাঁর উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে এবং তাঁকে স্বাধীনতা দিয়েছে।
ভাস্কর ভট্টাচার্য, যিনি নিজেও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি বিশেষজ্ঞ, জানান, একসময় ভিজিটিং কার্ডের লেখা বা বইয়ের নাম পড়ার জন্য তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। ব্যাংকের কাগজপত্র কিংবা অফিসের নথিপত্রের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা ছিল। কিন্তু আজ এআই প্রযুক্তির কল্যাণে তিনি নিজেই সংবাদপত্র পড়তে পারেন, পোশাকের রং নির্বাচন করতে পারেন এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতিবেদন লিখতে পারেন। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষ তাঁকে আরও দক্ষ ও দ্রুত কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে।
বর্তমানে হাজারো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ এআই ব্যবহার করে বই পড়া, চাকরির আবেদন, অনলাইন ব্যাংকিং বা ব্যবসা পরিচালনার মতো কাজগুলো স্বাধীনভাবে করছেন। এমনকি শহরের রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি সাহস জোগাচ্ছে। ভাস্কর ভট্টাচার্যের মতে, এআই কেবল কর্মসংস্থান বা অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কাছে তথ্যের প্রবেশাধিকার এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক।
যদিও এখনো অনেক ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল সেবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য নয় এবং এ ক্ষেত্রে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, তবুও তিনি আশাবাদী। কারণ, প্রযুক্তি এখন তাঁদের প্রয়োজন বুঝতে শিখছে এবং তাঁদের সঙ্গে পথ চলছে। যখন কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে এআই তাঁর কাছে কী, তিনি কোনো প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা না দিয়ে সহজভাবে বলেন, এটিই তাঁর চোখ।