প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নিয়মে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি আপলোড করা হবে, যার ফলে বর্তমানের জটিল ধাপগুলো কমে আসবে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইসি সচিব জানান, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের বর্তমান প্রক্রিয়াটি ছিল দুই ধাপের। আগে প্রবাসীরা আবেদন ফরম ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর তা তদন্তের জন্য পাঠানো হতো। তদন্ত শেষ হওয়ার পর তথ্য আপলোড করা হতো। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীরা সরাসরি বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোড করে দেবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন তদন্তের সত্যতা যাচাই করে এখান থেকেই অনুমোদন দিয়ে দেবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় একটি ধাপ কমে যাবে এবং নিবন্ধন আরও দ্রুত হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এখন থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের (মাইগ্রেশন) আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এই সেবার জন্য একটি নির্ধারিত সংশোধন ফি নেওয়া হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জেএসসি, এসএসসি বা অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার সনদে থাকা জন্মতারিখের ওপর ভিত্তি করে এখন থেকে স্থানীয় বা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই সংশোধনের অনুমোদন দিতে পারবেন। বর্তমানে এই সংশোধনের কাজটি কেন্দ্রীয়ভাবে করা হয়ে থাকে।
এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে ইসি। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এর আগ পর্যন্ত এই তথ্যগুলো সুপ্ত বা ডরমেন্ট অবস্থায় থাকে। ইসি সচিব জানান, এই তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কতটা নিচে নামানো যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এনরোলমেন্ট করা হবে—তা একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হবে।