২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রানার্স-আপ হওয়ার গভীর হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি যারা দলের পতনের অপেক্ষায় ছিল, তাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ডি পল তার পোস্টে লিখেছেন, আজ দেখছি কত মানুষ আমাদের এই পতনের অপেক্ষায় ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তারা ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছে, শুধু অন্যদের সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য। তার ভাষ্যমতে, আর্জেন্টিনার মানুষ যা অনুভব করছিল, তা অন্য কেউ কখনো অনুভব করতে পারেনি। তিনি বলেন, আমাদের হাসি তাদের বিরক্ত করে, আমাদের পথচলা তাদের অসহ্য লাগে। তবে এসব ঘটনা তার কাছে প্রমাণিত করেছে যে, দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ যেকোনো পরিস্থিতি জয় করতে পারে।
বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেশে নিয়ে যেতে না পারার কষ্ট ডি পলের লেখায় ফুটে উঠেছে। তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, সবচেয়ে বড় কষ্ট এই যে আমরা বিশ্বকাপটা আবার আমাদের দেশে নিয়ে যেতে পারিনি। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কেউ সেই অনুভূতি আবার পাওয়ার যোগ্য হয়ে থাকে, তবে সেটা তোমরাই। সময়ের সাথে সাথে ভক্তরা তাকে বুঝিয়েছে যে, এই দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেবল ট্রফির জন্য নয়। এই কঠিন সময় পার করার শক্তি তিনি সেখান থেকেই পাচ্ছেন বলে জানান। সবশেষে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, এই কষ্ট অনেক দিন থাকবে, কিন্তু আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আমি আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত।
পোস্টটির সঙ্গে ডি পল তিনটি ছবি শেয়ার করেছেন। এর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে রানার্স-আপ পদক গলায় ঝুলিয়ে গ্যালারির আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। বাকি ছবিগুলোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল জয় এবং বিশ্বকাপে গোল করার পর দলের উল্লাসের মুহূর্ত ফুটে উঠেছে।
৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ৩২ বছর বয়সি ডি পল কোচ লিওনেল স্কালোনির সফল যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেলেন। তিনি এখন নতুন প্রজন্মের আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।