গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার পর এবার নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাঁর পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। তাদের প্রস্তাব হলো, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু যদি ক্ষমতা থেকে সরে যান, তবে ‘শিন বেত’ নামক নিরাপত্তা সংস্থাটিকে আরও পাঁচ বছরের জন্য তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু বর্তমান নিয়মের ২০ বছরের পরিবর্তে আজীবন নিরাপত্তা সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
এই প্রস্তাবটি ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ মতবিরোধের জন্ম দিয়েছে। ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, শিন বেতের বিষয়াবলী তদারকিকারী মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি বারবার এই অনুরোধ অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন এবং পুনরায় কমিটির পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই বিশেষ সুবিধার দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বা ইয়ার লাপিদের সন্তানরা বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা পান না। তবে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
সংবাদপত্রটির বরাত দিয়ে একটি সূত্র জানায়, মূলত আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন। অন্য একটি সূত্রের মতে, বিতর্কটি মূলত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়, বরং এর সময়সীমা এবং ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঁচ বছরের বর্ধিত মেয়াদ দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে।