রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যেই কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত লেকের পানির উচ্চতা ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএলে পৌঁছেছে।
উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পানির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কায় শনিবার সকাল ১১টার পর যেকোনো সময় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও গেট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটই সচল রয়েছে। লেকের পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ২০৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এই উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড় ধসের ফলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।