বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আসা অনুরোধ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করে দেখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা অনুরোধের বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকারপ্রধান হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হয়েছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনি কানে আঘাত পান। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও ডিগ্রি লাভ করেছেন। এর মধ্যে ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ এবং বিভিন্ন আইসিটি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন, যিনি ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁদের দুই সন্তান—সজীব আহমেদ ওয়াজেদ ও সায়মা হোসেন ওয়াজেদ। শেখ হাসিনা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের রচয়িতা।