কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার সাংহাইয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। শি জিনপিং বলেন, বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটের মতোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এই প্রযুক্তি যেন কোনো একটি দেশের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও শি জিনপিং উন্নত চিপ ও এআই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তি রপ্তানি বন্ধ রাখলে বৈশ্বিক উদ্ভাবন ব্যাহত হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো পিছিয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে নতুন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ইতোমধ্যে ২৯টি দেশ স্বাক্ষর করেছে।
চীন আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য হাজারো এআই প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকস, আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এ চীন তার রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব আরও সুসংহত করতে চায়।
বর্তমানে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে লিপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চীন নিজস্ব উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি করছে। শি জিনপিং অবশ্য এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং এটি যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এআই-এর প্রভাব নির্ধারিত হবে, যা প্রযুক্তির লড়াইকে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটের মতোই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।