ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশের জনগণকে একুশের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী ভারত সব দিক থেকে আমাদের ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আগ্রাসন প্রতিহত করতে হলে নিজেদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধবিষয়ক’ এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবদাল আহমদ সতর্ক করে বলেন, ভারত সরাসরি আমাদের দেশ দখল করবে না, বরং তাদের শক্তিশালী স্যাটেলাইট টেলিভিশন, হিন্দি সিনেমা ও বিশাল বাণিজ্যিক বাজারের মাধ্যমে আমাদের ২০ কোটি মানুষের বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আর এই বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো সংস্কৃতি।
নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, সংস্কৃতি মানুষকে তার দেশ, ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে। নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে মানুষ হীনম্মন্যতায় ভোগে না এবং যেকোনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। নিজস্ব সাহিত্য, শিল্পকলা ও লোকসংগীত নতুন প্রজন্মকে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো অনুন্নত বা ছোট দেশগুলোতে নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
নতুন প্রজন্মকে দেশের বীরত্বগাথা ও সমৃদ্ধ ইতিহাস বেশি বেশি জানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে তরুণ সমাজ বিদেশি সংস্কৃতিতে প্রভাবিত হয়ে দেশপ্রেমহীন হয়ে পড়বে। পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলাম। সেই একুশের চেতনা আজও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের পথ দেখাবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল বলেন, ভাষা, সাহিত্য, ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধ, পোশাক ও জীবনযাপন মিলেই একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে সংস্কৃতির আদান-প্রদান বাড়লেও আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে পরিবারকে সংস্কৃতি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমদ আরিফ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সদস্য এইচ.এম আল-আমিন এবং আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার পির জুবায়ের। সেমিনারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১২: ৪৮আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৩: ১০
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আমাদের মাতৃভাষা ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয়েছিল। উর্দু ভাষাকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, যা আমরা ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে রুখে দিয়েছিলাম। তখন থেকেই একুশের চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল। আজও এ ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য একুশের চেতনা