রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর ভাটারার ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে গেছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে এসএসএফের নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বের হন বলে একটি বার্তায় জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তাকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত সংস্কার ও তদন্তের সময় যদি তার বা অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরিফ হোসেন খান আরও জানান, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়মের তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকা শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে দাখিল করেছে। এই বিষয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন এবং পরবর্তীতে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি কোম্পানি মিলে ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে, যার মধ্যে রাষ্ট্রপতির কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সও অন্তর্ভুক্ত ছিল।