মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাঁচ দিন বিরতির পর বুধবার রাতে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার জেরে অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন হামলায় ইরানে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক এবং জানজান প্রদেশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বুশেহর প্রদেশের বুশেহর, জাম ও খোরমোজ শহর, খুজেস্তান প্রদেশের আহভেজ শহর, ফারস প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা, হোরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এবং কিশ দ্বীপ এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও জর্ডানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েতের আলী-আল-সালেম সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন। এই হামলায় ড্রোন রাখার দুটি হ্যাঙ্গার ও একটি জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে বলে তাদের দাবি। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান, যদিও মার্কিন বাহিনী এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
এদিকে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এরপর ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক সই হলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের জেরে তা কার্যত ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই থেকে টানা ১৩ দিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর পাঁচ দিনের বিরতিতে আলোচনার ক্ষীণ আশা জেগেছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গাজা, লেবানন ও সিরিয়াতেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৪১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তবে গবেষক ট্রিটা পারসির মতে, উভয় পক্ষই মনে করছে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে, যা সমঝোতার পথকে রুদ্ধ করছে।