তীব্র দাবদাহ ও তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপের বাজারে এসি সরবরাহের এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে চীন। বেইজিংয়ের বড় বড় হোম অ্যাপ্লায়েন্স কোম্পানিগুলো এখন প্রচলিত সমুদ্রপথের পরিবর্তে চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনকে প্রধান পরিবহন মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ে বেশি পণ্য পৌঁছে দিয়ে তারা বাজারের বড় অংশ দখলে নিয়েছে।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের (এনডিআরসি) এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মিডিয়া গ্রুপ ও গ্রি ইলেকট্রিক অ্যাপলায়েন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের বাজারে দ্রুত এসি সরবরাহের লক্ষ্যে তাদের লজিস্টিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে যেখানে প্রায় ৪০ দিন সময় লাগত, সেখানে চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনে সময় লাগছে মাত্র ১৫ দিন। অর্থাৎ, পণ্য পরিবহণের সময় ৬০ শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে।
ইউরোপের স্থানীয় এসি উৎপাদন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তারা অনেকাংশেই চীনা উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদন সক্ষমতা চীনের পার্ল রিভার ডেল্টা অঞ্চলে অবস্থিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গুয়াংঝু রেলওয়ে গ্রুপের চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেনে এসি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ পরিবহনের মূল্য ৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই সময়ে সম্পূর্ণ এসি ইউনিটের চালান এক লাখের বেশি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন-ইউরোপ রেলপথ মৌসুমি পণ্যের দ্রুত সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমুদ্রপথের তুলনায় এটি দ্রুত এবং আকাশপথের তুলনায় কম খরচের হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন নিয়মিত মজুতের জন্য সমুদ্রপথ এবং জরুরি সরবরাহের জন্য রেলপথ—এই দ্বৈত কৌশল গ্রহণ করছেন। বর্তমানে চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন ২৬টি ইউরোপীয় দেশের ২৩৬টি শহরের সঙ্গে সংযুক্ত ৯৬টি রুটে চলাচল করছে। এ পর্যন্ত এই রুটে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ট্রেন চলাচল করেছে এবং পরিবহন করা পণ্যের মোট মূল্য ৫২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।