হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতদিন 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দীর্ঘ তিন বছর পর এই সভাটি অনুষ্ঠিত হলো।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমানে কর্মরত ১ হাজার ৪৫০ জন সদস্যের অর্ধেককে প্রত্যাহার করা হবে। এর তিন মাস পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্য থেকে আরও অর্ধেক সরিয়ে নেওয়া হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরে মোতায়েন বিমানবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমানের এক-চতুর্থাংশে নেমে আসবে। বেবিচকের নিজস্ব এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলে বিমানবাহিনী বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে এই দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই বিমানবাহিনী ও এপিবিএনের মধ্যে কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং গত ১২ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীর মাধ্যমে এপিবিএনের দায়িত্ব পুনর্বহালের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেতৃত্ব মূলত বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত। তিনি জানান, একাধিক সংস্থার সমান্তরাল কর্তৃত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তি তৈরি করে, তাই ইউনিফায়েড কমান্ড কাঠামো জরুরি। বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং ভারসাম্যহীনতা কাটানোর লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন এই রূপরেখায় দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের নেতৃত্ব বেসামরিক সংস্থাগুলোর হাতে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা সংকট বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ব দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কমান্ড ও কন্ট্রোল নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই পুনর্বিন্যাসের অন্যতম কারণ। বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মোট জনবলের ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তিন মাস পর অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্য থ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে এপিবিএনের দায়িত্ব পুনর্বহাল এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই নোটিশে বেসামরিক বিমান পরিবহ