ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং এ বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ৩১শে জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারদের নিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশন বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, সেটি শেষ হলেই স্থানীয় নির্বাচনের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এছাড়া সারা দেশে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতেও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ২০১৬ সালের বিধিমালার পরিবর্তে এবার নতুন আচরণবিধি কার্যকর করা হবে। নতুন নিয়মে পোস্টার নিষিদ্ধ করা হলেও ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এর আকার ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নতুন আচরণবিধিতে ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের, ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ড ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট বা ২০ ফুট বাই ১০ ফুট আকারের হতে হবে। এছাড়া প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয় প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আচরণবিধি অনুযায়ী, মাইকে প্রচারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনী ব্যয় ও নিয়ম লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অনেক নির্বাচিত প্রতিনিধি আত্মগোপনে বা পলাতক থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।