বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর সম্প্রতি দিল্লির উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ব্যক্তি-অধিকার রক্ষার স্বার্থে। তার অভিযোগ ছিল, অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার চেহারা ব্যবহার করে অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরি করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। বর্তমান সময়ে তারকাদের ডিপফেক ভিডিও বা অশ্লীল কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়া একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যার ফলে অনেক বলিউড তারকা প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে ফ্যান পেজগুলোর দৌরাত্ম্যও তারকাদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রীদেবীকন্যা জাহ্নবী তার চেহারা ব্যবহার করে অশ্লীল কন্টেন্ট ছড়ানো ফ্যান পেজগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) এই মামলার শুনানিতে দিল্লির উচ্চ আদালত বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে বড় নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার কোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা যাবে না।
তবে আদালত তার এই রায়ে ফ্যান পেজগুলোকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের মতে, তারকা মানেই ভক্তদের মতামত বা আবেগ জোর করে চেপে রাখার সর্বময় অধিকার নয়। আদালত আরও জানান, কোনো আলোকচিত্রীর তোলা ছবি অন্য কেউ বিক্রি করলে কপিরাইটের জটিলতা থাকতে পারে, কিন্তু সেখানে তারকা রয়েছেন বলেই তা সরাসরি বে-আইনি বলা যায় না।
জাহ্নবীর আইনজীবীরা পাঁচ হাজারের বেশি বিতর্কিত লিঙ্কের তালিকা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। তবে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার অশুভ অজুহাতে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা বা স্বাভাবিক মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা যাবে না।