১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তার শাসনামলের প্রথম মেয়াদে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নারীশিক্ষা ও বৃত্তিসহ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবির মুখে ২৫ মার্চ সংসদে বিল পাস করার পর ৩০ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের বড় বিজয়ের পর ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
আজ ১৫ আগস্ট তার ৮২তম জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি তার সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই পালন করতে হচ্ছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই আপসহীন নেত্রীকে দেশবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিকালে ঢাকার মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিশেষ দোয়া ও দরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর সাধারণ গৃহবধূর জীবন থেকে তিনি জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে উঠে আসেন। সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা, বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবন্দিত্বের পরও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর ছাপ রেখে গেছে।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ ছিল অনেকটা আকস্মিক। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে তিনি আপসহীন নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয় এবং বিভিন্ন সময় তাকে সাতবার আটক হতে হয়। ১৯৯০ সালে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে। ১০ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীশিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।