যুদ্ধের শুরুর দিকে নিজেদের বোমারু বিমানের তিন পাইলটকে কাতার আটক করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে বন্দি পাইলটদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠির মাধ্যমে এই দাবি সামনে এনেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যদের অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। বৈশ্বিক সাহায্য সংস্থা রেড ক্রসের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি নিখোঁজ পাইলটদের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জেনারেল বাঘেরজাদেহ জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর, গত ২ মার্চ একটি বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ওই পাইলটরা। সে সময় তাদের এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমানগুলো ‘শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার’ গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিমানগুলো থেকে পাইলটরা নিরাপদে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন।
চিঠিতে দাবি করা হয়, বিমান থেকে বেঁচে ফিরলেও পরবর্তীতে কাতার কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দি হন তিন পাইলট। আটক এই তিন কর্মকর্তা হলেন—জাভাদ সালেহি, আব্দুলমাজিদ দাশতিয়ান এবং ওমরান বেহরাভেশিয়ান। এছাড়া ওই অভিযানে থাকা মাজিদ কাজেমী নামের চতুর্থ আরেক পাইলট মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাঘেরজাদেহ।
এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, এই পাইলটদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে জেনারেল বাঘেরজাদেহর এই নতুন চিঠি থেকে পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, নিখোঁজ পাইলটদের ব্যাপারে ইরান এখন কী ভাবছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কাতার এবং রেড ক্রসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। উল্লেখ্য, কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং গত ২ মার্চ কাতার জানিয়েছিল যে তাদের বিমানবাহিনী ইরানের দুটি এসইউ-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।
চিঠিতে ইরানি কমান্ডার অভিযোগ করেছেন, কাতার সরকার বন্দি পাইলটদের তাদের পরিবার কিংবা তাদের মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় রেড ক্রসকে অবিলম্বে বন্দি পাইলটদের সাথে দেখা করার, তাদের শারীরিক অবস্থা তদন্ত করার এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।