থাইল্যান্ডের অশান্ত দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও আগুন-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল স্থানীয় সরকারি দপ্তর, একটি কনভেনিয়েন্স স্টোর, একটি চুরি করা গাড়ি এবং বিভিন্ন এলাকার টেলিযোগাযোগ টাওয়ার।
থাই সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণ সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। এছাড়া প্রতিবেশী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী আহত হয়েছেন।
হামলার পর নারাথিওয়াত প্রদেশে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়েছিল, যা রবিবার সকালে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রবিবার নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সন্দেহজনক কোনো বস্তু স্পর্শ না করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোতে ২০০৪ সাল থেকে নিম্নমাত্রার সশস্ত্র সংঘাত চলে আসছে। অঞ্চলটির বিদ্রোহীরা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। দীর্ঘদিনের এই সশস্ত্র সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে রয়েছে মূলত বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ব্যাংককে সরকার পরিবর্তন এবং উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে সেই প্রক্রিয়া বারবার থমকে গেছে।
এর আগে গত জুলাই মাসে নারাথিওয়াতে একটি চেকপোস্টে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত শান্তি সংলাপ স্থগিত করে। থাই গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহীরা প্রায়ই নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সফরের আগেও এমন হামলার ঘটনা ঘটে থাকে। আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।