জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সুদীর্ঘ ৫২ দিনের সফরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগ থেকে রোববার জারি করা এক সরকারি আদেশে এই সফরের অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্র জানায়, ড. খলিলুর রহমান কোনো ছুটিতে যাচ্ছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তাকে এই দীর্ঘ সময়ের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট বা তার কাছাকাছি সময়ে তিনি ঢাকা ছাড়বেন এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশন শুরুর আগেই ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের কাছ থেকে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব বুঝে নেবেন। নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রস্তুতির জন্যই তাকে অধিবেশন শুরুর পূর্বেই নিউইয়র্কে পৌঁছাতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত জুনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে ড. খলিলুর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হন। মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে পরাজিত করেন, যিনি ৯১ ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর ড. খলিলুর রহমান সবার জন্য কাজ করা এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।
বাংলাদেশ প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসছে, যা এবারের অধিবেশনকে দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই গৌরবময় মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা ছাড়তে পারেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে।