বেসামরিক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলিও অনুমোদন পেয়েছে, তবে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা কাঠামো পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। নতুন এই বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই ভারসাম্যপূর্ণ বেতনকাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরো বেতনকাঠামো একবারে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে মোট তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। গত ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, আগামী জানুয়ারিতে ৩০ শতাংশ এবং আগামী জুলাইয়ে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ প্রদান করা হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন।
পেনশনভোগীদের জন্য নতুন কাঠামোয় বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যদিও এখনই ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অসামরিক কর্মচারী অনেকের তথ্য সরকারের কাছে নেই। বর্তমানে মাসিক পেনশনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা চালু করা হয়েছে।
নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বছরে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয় ২০২১-২২ অর্থবছরে, যা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও করজাল বিস্তৃতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা যায়। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং বিনিয়োগের স্বল্পতা এই প্রক্রিয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।